এ বৎসরের শেষের দিকে লিনাক্সের জন্য অভ্র আসছে

বিশেষ খবর -লিনাক্সের জন্য অভ্র আসছে: বাংলা ভাষাকে অনলাইনে (Online) সহজলভ্য করে তোলার জন্য তরুণ প্রোগ্রামারদের পরিশ্রমের শেষ নেই। তাদের এক বিশেষ অবদান হল 'অভ্র'। যাঁরা ইউনিকোড (Unicode) পদ্ধতিতে লিখে থাকেন, তারা প্রায় সবাই ওমিক্রনল্যাবের তৈরি 'অভ্র' ব্যবহার করেন। পুরনো পদ্ধতির বিজয় (Bijoy) দিয়ে অনলাইনে কোনরকম বাংলা লেখালেখি করা যেত না। তারা নিজেদের সফটওয়ারকে (Software) বাংলা লেখার একমাত্র পদ্ধতি বলে মনে করতো। 'অভ্র' এসে তাদের সেই অহংকারে দূর্গে আঘাত এনেছে। যাঁরা অনলাইনে বাংলা লেখেন বা বাংলায় ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ তৈরি করতে চান, তাদের কাছে 'অভ্র'র বিকল্প এতদিন ছিল না। অভ্র'র এই জনপ্রিয়তা দেখে বিজয়ওয়ালারা তাদের সফটওয়ারের ইউনিকোড ভার্শন বের করতে বাধ্য হয়েছে।

এতদিন 'অভ্র' ব্যবহার করা যেত শুধুমাত্র উইন্ডোজ (Windows) কম্পিউটারে। অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমে 'অভ্র' কাজ করতো না। কিন্তু গতকাল ভিস্তা আর্কের রিফাত তার টুইটার ব্লগে (Tweeter Blog) জানিয়েছেন যে লিনাক্সের জন্য 'অভ্র' তৈরির কাজ ৯৯ ভাগ (99%) সম্পন্ন হয়ে গেছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্নরকম পরীক্ষা নিরীক্ষার পর 'অভ্র ৫' এর প্রথম ভার্শনটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

আমারব্লগ.কম সোশাল ব্লগিং সাইটের (Social Blogging Site) ব্লগার 'যুদ্ধদেব' এর একটি পোস্টে জানা গেল যারা আলফা টেস্টার তারা আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে অভ্র'র আলফা ভার্সনটি (Alfa Version) হাতে পাবে। তাদের হাতে ফুল ভার্সনটি (Full Version) আসতে আরো প্রায় ১ মাস লাগবে। সম্পূর্ণ অভ্র ৫ (Avro 5) আসতে পারে এ বছরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বৎসরের শুরুতে।

আমারব্লগ.কম সোশাল ব্লগিং সাইটের পোস্টটির সৌজন্যে অভ্র'র আলফা টেস্টার ভার্সনের একটি স্ক্রিনশট (Screen Shot) পাওয়া গেল।
ছবিটি দেখে ধারণা করা যায় যে লিনাক্সে (Linux) বাংলা লেখার অন্য কিবোর্ডগুলোর মতো 'অভ্র ৫' আসছে স্কীম (SCIM) এর কাঁধে ভর করে।

লিনাক্সপ্রেমীরা সবাই অধীর আগ্রহে এই ঘোষণাটির জন্য অপেক্ষা করছিল। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি তাদের অপেক্ষার পালা শেষ হবে। আমরা সবাই অপেক্ষা করছি লিনাক্সের জন্য অভ্র'র উন্মুক্ত হওয়ার সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির জন্য।

ধন্যবাদ ভিস্তা আর্ক, ধন্যবাদ রিফাত

<#> এতদিনেও কেন লিনাক্সে বাংলা লেখার জন্য অভ্রকে তৈরি করা যায়নি সে সম্পর্কে অভ্র'র নির্মাতার নিজের লেখাটি দেখুন সচলায়তনের এই পাতায়। মেহ্‌দী হাসান খান বিশদভাবে আলোচনা করেছেন যে, অভ্র তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ভিজুয়াল বেসিক ৬ । বর্তমানে মাইক্রোসফট ভিজুয়াল বেসিক ৬ এর পর আর কোন আপডেট না ছাড়ায় নতুন প্লাটফরমের উপযোগী করে অভ্রকে তৈরি করা যাচ্ছিল না।

অভ্র'র নির্মাতার ভাষায়:
অভ্রর প্রথম দিকের ভার্শন শুরু হয়েছিল শুধু ইউনিবিজয় এর ফিক্সড কীবোর্ড লেআউট নিয়ে। সেটা ২০০৩ সালের কথা। উইন্ডোজে বাংলা ইউনিকোড ব্যবহার লেখার এটাই ছিল প্রথম প্রয়াস। অঙ্কুর আগে থেকেই বাংলা লিনাক্স নিয়ে কাজ করছিল, কিন্তু সেই সময় বাংলাদেশে "বায়োস" বাংলায় লিনাক্সের একটা ডেমো নিয়ে একুশে বইমেলাতে আসে। ওদের ইউনিবাংলা ফন্টটা উইন্ডোজে ব্যবহার করতে গিয়ে কোন উপায় না পেয়েই আমি প্রথম অভ্রর কাজ শুরু করি। অভ্রর প্রথম কিছু ভার্শন ছিল খুবই আনস্টেবল, হতাশাজনক ভাবে ".নেট ফ্রেমওয়ার্ক ভার্শন ১" ব্যবহার করে তৈরী সেই অভ্র (সেই সময় অভ্রর নাম ছিল ইউনিবিজয়) আমার কম্পিউটার ছাড়া আর কোথাও কাজ করত না! পরে প্রজেক্টটা ভিবি ৬ এ কনভার্ট করে স্টেবল করা হয়। যেহেতু ভিজুয়াল বেসিকের উন্নয়ন মাইক্রোসফট বন্ধ করে দিয়েছে, তাই এখন ভার্শন ৫ এর জন্য ভবিষ্যত প্রয়োজন মেটাতে প্রজেক্টটা আবার ডেলফিতে কনভার্ট করা হচ্ছে।
অভ্র'র সোর্স কোডকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিলে একটা মহা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর তা হলো নিরাপত্তা সমস্যা। ওপেন সোর্স অর্থ হলো এর সোর্স কোডটি ব্যবহার করে যে কেউ সফটওয়ারটি উন্নয়ন বা আরও বিভিন্ন জিনিস যোগ বা বিয়োগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে অভ্রকে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম হিসেবে ব্যবহার করার একটা আশংকা থেকে যায়।

মেহ্‌দী হাসান এর ভাষায়:
যেকোন ইনপুট মেথড এডিটরের মত অভ্রও কীবোর্ড হুক করে কাজ করে। দীর্ঘ ৫ ধরে প্রজেক্টটি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে নিয়েছে। এখন কারো অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টিস্পাইওয়্যার যদি সতর্কতা বার্তাও দেয় যে "সফটওয়্যারটি কীবোর্ড হুক করছে, এটা একটা কী-লগারও হতে পারে", ব্যবহারকারীরা হাসিমুখে সেই মেসেজ উপেক্ষা করেন। অভ্র ওপেন সোর্স হলে ফুল ফাংশনালিটি বজায় রেখে এটাকে একটা ক্ষতিকর প্রোগ্রাম হিসেবে দাঁড় করিয়ে ফেলা সম্ভব যে কারো পক্ষেই। ব্যবহারকারী ভাবলেন পরিচিত কেউ তাকে অভ্র দিয়ে গেছেন, কিন্তু হতে পারে সেটা একটা কী-লগার যা তার পাসওয়ার্ড/ক্রেডিট কার্ড নাম্বার ইত্যাদি গোপনে চুরি করছে। এটা যেকোন মূল্যে হতে দেয়া যায় না। ডিজিটাল সিগনেচার/সার্টিফিকেট ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু ডিজিটাল সার্টিফিকেট কেনা এবং সময়ান্তে আপডেট করার জন্যও একটা বড় অংকের অর্থ প্রয়োজন। CRC চেক করা যেতে পারে। কিন্তু এইসব চেক যদি অভ্রই করে তাহলে সোর্স থেকে সেটাও বন্ধ করা সম্ভব।
এইসব বিভিন্ন রকম সমস্যা থেকে অভ্র মুক্ত থাকুক। ভালো জিনিস খারাপ মানুষের হাতে পড়লে খারাপ হয়ে যেতে পারে, তাই বলে তো আর 'চোরের ভয়ে কলাপাতায় ভাত খাওয়া' ঠিক হবে না। উপযুক্ত সমাধান সময়ে বের হয়ে আসবে, এই প্রত্যাশা করি।
 

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

কিছু কথা

সফটওয়ার ও ওয়েবওয়ারের বিভিন্ন টিপ্‌স, টিউটোরিয়াল, হ্যাক্‌স, টেমপ্লেট বা থিম্‌স ইত্যাদি নিয়েই আমি ব্লগ লিখছি। আমার প্রধান আগ্রহ ব্লগিং টিপস। এছাড়াও প্রযুক্তির বিচিত্র বিষয় নিয়ে মত বিনিময়, সমস্যা ও তার সমাধান এবং আলোচনা করার জন্য এই ব্লগ খুলেছি। আশা করি আপনি নিরাশ হবেন না। এই ব্লগের সব লেখাগুলো যেকোন মিডিয়ায় এই লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশ করতে পারবেন। বিস্তারিত পড়ুন....

Search This Blog

© 2009-2014 Bangla Hacks | Design by: Bangla Hacks. Powered by: Blogger