সম্প্রতি গুগলের কয়েকজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, এখন থেকে তারা আর মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ব্যবহার করবেন না। এ বিষয়ে গুগল অফিসিয়ালি কোন মন্তব্য করেনি। কিন্তু একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, গত জানুয়ারি মাসে যখন চীনা হ্যাকাররা গুগলের সাইট আক্রমণ করে, তখন থেকেই বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। গুগলের চাইনিজ অপারেশন যখন হ্যাক হয়ে যায়, তখন থেকে সবাই উইন্ডোজের উপর খুব বিরক্ত বোধ করা শুরু করে। একজন বলেছেন, আমরা আর উইন্ডোজ ব্যবহার করবো না। এটা নিরাপত্তার বিষয়। এটাকে অবহেলা করা যায় না। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ (সারা বিশ্বে গুগলের ১০,০০০ জন কর্মচারী আছে) চায়না আক্রমণের পর থেকে তাদের কম্পিউটারেরর অপারেটিং সিস্টেম পাল্টাতে শুরু করেছে। কেউ কেউ অ্যাপলের ম্যাকিন্টোশের দিকে ঝুঁকে পরলেও বেশিরভাগের পছন্দ লিনাক্স।
তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদেরকে দুইরকম অপশন দেয়া হবে। অ্যাপলের ম্যাক অথবা লিনাক্স যে কোন একটি বেছে নেবার কথা বলা হবে। আসলে মাইক্রোসফটকে নিয়ে আমরা খুব একটা ভালো নেই। অথচ লিনাক্স ওপেন সোর্স এবং আমরা এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
জানুয়ারির ঘটনার সময় গুগলে নতুন যোগদান করা কর্মচারীরা তাদের ল্যাপটপে উইন্ডোজ ব্যবহার করার অনুমতি পেত। কিন্তু ডেস্কটপে উইন্ডোজ ব্যবহার করার অনুমতি পেত না। কিন্তু চায়না অ্যাটাক সবকিছু পাল্টে দেয়। এখন ওরা নিরাপত্তার খাতিরে ম্যাকিন্টোশ ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে। তবে সবচাইতে সুবিধা হবে যখন গুগলের নিজস্ব ক্রোম ওএস প্রকাশ হবে। তখন গুগল প্রোডাক্টগুলো গুগলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমকে ভিত্তি করেই তৈরি করা যাবে। এছাড়াও নিরাপত্তার ভিত্তি হবে খুব মজবুত।
খবরের সূত্র
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

Hello, I am Aero River. Like to do web tweaking. :)


13 comments:
Bah!
দারুণ খবর। এরকমই তো চাই।
গুগল অনেক আগে থেকেই লিনাক্স ব্যবহার করে। গুগলের সবগুলো সার্ভার চলে লিনাক্সে। তাছাড়া গুগল কিন্তু অনেক আগে থেকেই তাদের অফিসে উবুন্টু ব্যবহার করত। তবে সেটা সাধারণ উবুন্টু যেটা আমরা ব্যবহার করি সেটা না, গুগলের জন্য ক্যানোনিকাল তাদের এলটিএস রিলিজের উপর কাস্টমাইজড উবুন্টু বানিয়ে দেয় যার নাম গুবুন্টু। গুগলের ডেস্কটপগুলোতে যে লিনাক্স চলে সেটা আসলে গুবুন্টু।
লিনাক্স কমিউনিটিতে গুগলের বদনামও আছে, গুগল লিনাক্সের কোড ব্যবহার করে ঠিকই কিন্তু কোড লেখায় বা পরিমার্জনে কখনো অংশ নেয়না, অর্থাৎ গুগল খালি নিয়েই যাচ্ছে। অন্যান্য কোম্পানিগুলো কিন্তু লিনাক্স থেকে যেমন নিচ্ছে ঠিক তেমনি দিয়েও যাচ্ছে। তবে সামনের ক্রোমওএস দিয়ে গুগল হয়তো তাদের এই বদনাম ঘুচাতে পারবে। ইতিমধ্যেই তারা লিনাক্সের কোডিংয়ে অংশগ্রহনের কথঅ জানিয়েছে।
ফেডোরা ব্যাবহার করে মন্তব্য করছি। আমি গনোম ভার্সন ইনস্টল করেছি। ফেডোরা সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?
ফেডোরা সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানিনা। তবে এটাও লিনাক্সে একটি বিখ্যাত ডিস্ট্রো। বাংলাদেশে ফেডোরা ব্যবহারকারী আছে। কিন্তু তারা অন্যকে সাহায্য করতে সম্ভবত উবুন্টু ব্যবহারকারীদের মতো অতো উৎসাহী নন।
@ অভ্রনীল, গুগল যে আগে থেকেই লিনাক্স ব্যবহার করতো, তা জানা ছিল না। আপনার সৌজন্যে প্রাপ্ত লিংক ধরে গিয়ে অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ।
@সানজিদা
আমার মতে ফেডোরা এখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত নয়। উবুন্টুতে সব কাজ যেমন অনায়াসে করা সম্ভব, ফেডোরাতে সেরকম নয়। তাছাড়া ফেডোরার স্ট্যাবিলিটিও একটা বড় ফ্যাক্টর, ব্লিডিং এজ সফটওয়্যার দিয়ে ফেডোরার রিপোজিটরী ভর্তি থাকে, ফলে হুটাহাট করেই সিস্টেম ক্র্যাশ করে (ফেডোরা ১০, ১১ ও ১২ এর আলোকে বলছি, ১৩ ব্যবহার করিনি)। ফেডোরা হচ্ছে রেডহ্যাটের জন্য টেস্টবেড বা গিনিপিগ। অর্থাৎ ফ্রি ভার্সনের ইউজার ফিডব্যাকের উপর নির্ভর করে তারা এন্টারপ্রাইজ এডিশান বাজারে ছাড়ে। এমনকি ফেডোরার চেয়ে ওপেন স্যুযের স্ট্যাবিলিটি অনেক ভালো। তাছাড়া ডেবিয়ানের apt এর সমপর্যায়ের প্যাকেজ ম্যানেজারের বিকল্প এখনো ফেডোরা বা ওপেনস্যুযে তে অনুপস্থিত।
যাই হোক, নবীশদেরকে আমি কখনো উবুন্টু ও মিন্ট ছাড়া অন্য কোন ডিস্ট্র সাজেস্ট করিনা (এমনকি ডেবিয়ানও না), কারণ:
- উবুন্টু বা মিন্টের মত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ইউজার ফ্রেন্ডলি ডিস্ট্র এখনো হয়নি।
- আউট-অফ-বক্স ব্যবহার উপযোগী।
- এদুটোতে সিস্টেম (একেবারেই) ক্র্যাশ করেনা বললেই চলে।
- আর কোন অপারেটিং সিস্টেমের উবুন্টুর মত বিশাল কমিউনিটি নেই, যারা একেবারে তুচ্ছ প্রশ্নকেও যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে উত্তর দেবার চেষ্টা করে, তুচ্ছ প্রশ্ন করার জন্য প্রশ্নকারীকে উপেক্ষা করেনা এবং উত্তরগুলোর ভাষা নবীনদের জন্য সহজবোধ্য থাকে।(ফেডোরা আর ওপেন স্যুযের ফোরামগুলো ঘুরলেই টের পাবেন উবুন্টুর ফোরামের সাথে এদের পার্থক্য)।
- প্রচুর পরিমাণে .deb প্যাকেজের এ্যাভেইলেবিলিটি যা কিনা .rpm এর চেয়ে অনেক বেশি। হয়তো বলবেন এলিয়েন ব্যবহার করার কথা। কিন্তু কয়জন সাধারণ ব্যবহারকারী এলিয়েন দিয়ে কাজ চালাতে পারবে?
- মিন্টেতো কোডেকও ডাউনলোড করতে হয়না, রেডিমেড থাকে।
@ অভ্রনীল, ফেডোরা সম্পর্কে অনেক তথ্য সহজ করে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ভালো খবর। লিনাক্সের জয় হোক।
@ সুশান্ত বর্মন, মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আচ্ছা ভাইয়া আপনারা ম্যানড্রিভা লিনাক্স সম্পর্কে কিছু জানেন? জেন্টু নামের একটি লিনাক্সের দেখা অনলাইনে পেলাম। কিন্তু কিছুই বুঝলাম না।
@ সানজিদা
ম্যানড্রিভাও খারাপ না বেশ ভালো। কেডিই ডেস্কটপ ব্যবহার করে বলে দেখতে বেশ সুন্দর। তবে এতে .rpm ব্যবহার করা হয়। ম্যঅন্ডরিভঅর মতই আরেকটি হচ্ছে মেপিস, দেখতে সুন্দর এবং ব্যবহার করে .deb। আর স্ল্যাকওয়্যার, জেন্টু, সেন্টওস, আর্চলিনাক্স - এগুলো হল অ্যাডভান্সড পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের জন্য, এগুলোতে প্রায় সবকিছুই নিজে নিজে কম্পাইল করে করতে হয়। তবে উপরের কোনটাই উবুন্টু বা মিন্টের মত একেবারে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত নয়। তাছাড়া কোনটারই ইউজারবেজ উবুন্টুর মত বিশাল নেই। লিনাক্স আসলে শুধু একটা অপারেটিং সিস্টেম নয় বরং একটা কমিউনিটি, যেখানে সবাই সবার সাহায্যে সবসময় প্রস্তুত থাকে। তাই ডিস্ট্রো পছন্দ করার আগে দেখা উচিৎ কোন ডিস্ট্র'র ইউজার বেজের মেন্টালিটি আপনার সাথে খাপ খায়।
এবার অন্য কথা বলি। আর্চ লিনাক্স বা জেন্টু'র ব্যবহারকারীরা উবুন্টু বা মিন্টকে দেখতে পারেনা। তাদের চোখে উবুন্টু'র কারণে অগামগা লোকজন (!) লিনাক্স ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে, যারফলে লিনাক্সের ভাবগাম্ভীর্য নাকি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ঐসব অগামগা (!) লোকজন নাকি উবুন্টু ফোরামে মগা টাইপের প্রশ্ন করে যেসব প্রশ্ন আবার উবুন্টুর ফোরামের লোকজন বেশ পাত্তা দিয়েই উত্তর দেয়। বুঝতেই পারছেন আর্চ লিনাক্স বা জেন্টু'র ফোরামে কি টাইপের কথা বার্তা আলোচনা হয়। একটা উদাহরণ দেই। বিখ্যাত Ubuntu Pocket Guide and Reference বইটির লেখক কির থমাস বইটিতে লিখেছিলেন, যে তার নোটবুকে ওয়্যারলেস কার্ড কাজ করানোর জন্য এরকম এক ডিস্ট্র'র ফোরামে সাহায্য চেয়েছিলেন, সেখঅনে উত্তরটা ছিল এইরকম- "Getting the card to work is simple! Just grab the source code for the module and compile it against the kernel. insmod it and then use iwconfig to configure a
WEP password..." একজন নতুন ব্যবহারকারীর জন্য উত্তরটা নিঃসন্দেহে আতংকজনক! অথচ এই উত্তরটাই উবুন্টু'র ফোরামে পাওয়া যায় অনেক সহজভাবে, সংগে ধাপে-ধাপে বর্ণনাসহ।
তাই ডিস্ট্র ব্যবহারের সময় এমন ডিস্ট্র ব্যবহার করা উচিত যেগুলোতে সহজেই সাহায্য পাবার আশা থাকে। যেমন এখন যদি স্ল্যাকওয়ার ব্যবহার করতে যান আর আপনি যদি অ্যাডভান্সড ব্যবহারকারি না হয়ে থাকেন তবে যে দুটো মারাত্মক সমস্যায় পড়বেন সেগুলো হল নিজে নিজে সবকিছু কম্পাইল করতে হবে আর সমস্যায় পড়লে সাহায্যের জন্য আশপাশে কাউকে পাবেননা।
লিনাক্সের বিভিন্ন ডিস্ট্র সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভঅলো দুটো জায়গা হচ্ছে ডিস্ট্রওয়াচ আর উইকিপিডিয়া।
@ সানজিদা, এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, আমরা কেন উবুন্টুকে বেশি ভালবাসি।
Post a Comment
বাংলা হ্যাকস ব্লগকে ভালোবাসুন, বন্ধু হোন। ইমেইলে সাবস্ক্রাইব করুন।