Showing posts with label ইউনিকোড. Show all posts
Showing posts with label ইউনিকোড. Show all posts

এ বৎসরের শেষের দিকে লিনাক্সের জন্য অভ্র আসছে

বিশেষ খবর -লিনাক্সের জন্য অভ্র আসছে: বাংলা ভাষাকে অনলাইনে (Online) সহজলভ্য করে তোলার জন্য তরুণ প্রোগ্রামারদের পরিশ্রমের শেষ নেই। তাদের এক বিশেষ অবদান হল 'অভ্র'। যাঁরা ইউনিকোড (Unicode) পদ্ধতিতে লিখে থাকেন, তারা প্রায় সবাই ওমিক্রনল্যাবের তৈরি 'অভ্র' ব্যবহার করেন। পুরনো পদ্ধতির বিজয় (Bijoy) দিয়ে অনলাইনে কোনরকম বাংলা লেখালেখি করা যেত না। তারা নিজেদের সফটওয়ারকে (Software) বাংলা লেখার একমাত্র পদ্ধতি বলে মনে করতো। 'অভ্র' এসে তাদের সেই অহংকারে দূর্গে আঘাত এনেছে। যাঁরা অনলাইনে বাংলা লেখেন বা বাংলায় ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ তৈরি করতে চান, তাদের কাছে 'অভ্র'র বিকল্প এতদিন ছিল না। অভ্র'র এই জনপ্রিয়তা দেখে বিজয়ওয়ালারা তাদের সফটওয়ারের ইউনিকোড ভার্শন বের করতে বাধ্য হয়েছে।

এতদিন 'অভ্র' ব্যবহার করা যেত শুধুমাত্র উইন্ডোজ (Windows) কম্পিউটারে। অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমে 'অভ্র' কাজ করতো না। কিন্তু গতকাল ভিস্তা আর্কের রিফাত তার টুইটার ব্লগে (Tweeter Blog) জানিয়েছেন যে লিনাক্সের জন্য 'অভ্র' তৈরির কাজ ৯৯ ভাগ (99%) সম্পন্ন হয়ে গেছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্নরকম পরীক্ষা নিরীক্ষার পর 'অভ্র ৫' এর প্রথম ভার্শনটি সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

আমারব্লগ.কম সোশাল ব্লগিং সাইটের (Social Blogging Site) ব্লগার 'যুদ্ধদেব' এর একটি পোস্টে জানা গেল যারা আলফা টেস্টার তারা আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে অভ্র'র আলফা ভার্সনটি (Alfa Version) হাতে পাবে। তাদের হাতে ফুল ভার্সনটি (Full Version) আসতে আরো প্রায় ১ মাস লাগবে। সম্পূর্ণ অভ্র ৫ (Avro 5) আসতে পারে এ বছরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বৎসরের শুরুতে।

আমারব্লগ.কম সোশাল ব্লগিং সাইটের পোস্টটির সৌজন্যে অভ্র'র আলফা টেস্টার ভার্সনের একটি স্ক্রিনশট (Screen Shot) পাওয়া গেল।
ছবিটি দেখে ধারণা করা যায় যে লিনাক্সে (Linux) বাংলা লেখার অন্য কিবোর্ডগুলোর মতো 'অভ্র ৫' আসছে স্কীম (SCIM) এর কাঁধে ভর করে।

লিনাক্সপ্রেমীরা সবাই অধীর আগ্রহে এই ঘোষণাটির জন্য অপেক্ষা করছিল। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি তাদের অপেক্ষার পালা শেষ হবে। আমরা সবাই অপেক্ষা করছি লিনাক্সের জন্য অভ্র'র উন্মুক্ত হওয়ার সেই মাহেন্দ্রক্ষণটির জন্য।

ধন্যবাদ ভিস্তা আর্ক, ধন্যবাদ রিফাত

<#> এতদিনেও কেন লিনাক্সে বাংলা লেখার জন্য অভ্রকে তৈরি করা যায়নি সে সম্পর্কে অভ্র'র নির্মাতার নিজের লেখাটি দেখুন সচলায়তনের এই পাতায়। মেহ্‌দী হাসান খান বিশদভাবে আলোচনা করেছেন যে, অভ্র তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ভিজুয়াল বেসিক ৬ । বর্তমানে মাইক্রোসফট ভিজুয়াল বেসিক ৬ এর পর আর কোন আপডেট না ছাড়ায় নতুন প্লাটফরমের উপযোগী করে অভ্রকে তৈরি করা যাচ্ছিল না।

অভ্র'র নির্মাতার ভাষায়:
অভ্রর প্রথম দিকের ভার্শন শুরু হয়েছিল শুধু ইউনিবিজয় এর ফিক্সড কীবোর্ড লেআউট নিয়ে। সেটা ২০০৩ সালের কথা। উইন্ডোজে বাংলা ইউনিকোড ব্যবহার লেখার এটাই ছিল প্রথম প্রয়াস। অঙ্কুর আগে থেকেই বাংলা লিনাক্স নিয়ে কাজ করছিল, কিন্তু সেই সময় বাংলাদেশে "বায়োস" বাংলায় লিনাক্সের একটা ডেমো নিয়ে একুশে বইমেলাতে আসে। ওদের ইউনিবাংলা ফন্টটা উইন্ডোজে ব্যবহার করতে গিয়ে কোন উপায় না পেয়েই আমি প্রথম অভ্রর কাজ শুরু করি। অভ্রর প্রথম কিছু ভার্শন ছিল খুবই আনস্টেবল, হতাশাজনক ভাবে ".নেট ফ্রেমওয়ার্ক ভার্শন ১" ব্যবহার করে তৈরী সেই অভ্র (সেই সময় অভ্রর নাম ছিল ইউনিবিজয়) আমার কম্পিউটার ছাড়া আর কোথাও কাজ করত না! পরে প্রজেক্টটা ভিবি ৬ এ কনভার্ট করে স্টেবল করা হয়। যেহেতু ভিজুয়াল বেসিকের উন্নয়ন মাইক্রোসফট বন্ধ করে দিয়েছে, তাই এখন ভার্শন ৫ এর জন্য ভবিষ্যত প্রয়োজন মেটাতে প্রজেক্টটা আবার ডেলফিতে কনভার্ট করা হচ্ছে।
অভ্র'র সোর্স কোডকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিলে একটা মহা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর তা হলো নিরাপত্তা সমস্যা। ওপেন সোর্স অর্থ হলো এর সোর্স কোডটি ব্যবহার করে যে কেউ সফটওয়ারটি উন্নয়ন বা আরও বিভিন্ন জিনিস যোগ বা বিয়োগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে অভ্রকে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম হিসেবে ব্যবহার করার একটা আশংকা থেকে যায়।

মেহ্‌দী হাসান এর ভাষায়:
যেকোন ইনপুট মেথড এডিটরের মত অভ্রও কীবোর্ড হুক করে কাজ করে। দীর্ঘ ৫ ধরে প্রজেক্টটি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে নিয়েছে। এখন কারো অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টিস্পাইওয়্যার যদি সতর্কতা বার্তাও দেয় যে "সফটওয়্যারটি কীবোর্ড হুক করছে, এটা একটা কী-লগারও হতে পারে", ব্যবহারকারীরা হাসিমুখে সেই মেসেজ উপেক্ষা করেন। অভ্র ওপেন সোর্স হলে ফুল ফাংশনালিটি বজায় রেখে এটাকে একটা ক্ষতিকর প্রোগ্রাম হিসেবে দাঁড় করিয়ে ফেলা সম্ভব যে কারো পক্ষেই। ব্যবহারকারী ভাবলেন পরিচিত কেউ তাকে অভ্র দিয়ে গেছেন, কিন্তু হতে পারে সেটা একটা কী-লগার যা তার পাসওয়ার্ড/ক্রেডিট কার্ড নাম্বার ইত্যাদি গোপনে চুরি করছে। এটা যেকোন মূল্যে হতে দেয়া যায় না। ডিজিটাল সিগনেচার/সার্টিফিকেট ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু ডিজিটাল সার্টিফিকেট কেনা এবং সময়ান্তে আপডেট করার জন্যও একটা বড় অংকের অর্থ প্রয়োজন। CRC চেক করা যেতে পারে। কিন্তু এইসব চেক যদি অভ্রই করে তাহলে সোর্স থেকে সেটাও বন্ধ করা সম্ভব।
এইসব বিভিন্ন রকম সমস্যা থেকে অভ্র মুক্ত থাকুক। ভালো জিনিস খারাপ মানুষের হাতে পড়লে খারাপ হয়ে যেতে পারে, তাই বলে তো আর 'চোরের ভয়ে কলাপাতায় ভাত খাওয়া' ঠিক হবে না। উপযুক্ত সমাধান সময়ে বের হয়ে আসবে, এই প্রত্যাশা করি।

উবুন্টুতে বাংলা দেখা ও লেখার পদ্ধতি

অনলাইনের (Online) বিভিন্ন ব্লগে উবুন্টু লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে (Ubuntu Linux Operating System) কিভাবে বাংলা (Bangla) লেখা যাবে (Write) কিংবা কিভাবে বাংলা ব্লগ/ সাইটগুলোকে স্পষ্টভাবে দেখা (View) যাবে তার বর্ণনা রয়েছে। তারপরও আমি একই বিষয়টিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাচ্ছি, কারণ অন্য ব্লগ বা ওয়েবসাইটের বর্ণনাগুলো একটু জটিল। আর ওয়েব বিশ্বের কোটি কোটি সাইটের ঠিক কোন সাইটে লেখা রয়েছে তা খুঁজে পাওয়া কখনও কখনও কঠিন হয়ে পড়ে। উবুন্টুতে বাংলা লেখার পদ্ধতি নিয়ে এর আগে আর একটি পোস্ট লিখেছিলাম। সেই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র 'প্রভাত' লেআউট ব্যবহার করা যেত। নতুন পদ্ধতিতে আপনি ইউনিজয় পদ্ধতিতে লিখতে পারবেন।

## উবুন্টু ৯.০৪ ভার্সনকে (Ubuntu 9.04) ভিত্তি ধরে এই টিউটোরিয়ালটি লেখা হয়েছে। আশা করি উবুন্টুর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ভার্সনগুলোতে এই পদ্ধতিটি কাজ করবে।

বাংলা দেখার পদ্ধতি
উবুন্টুতে ডিফল্টভাবে বাংলা ফন্ট ইনস্টল করা থাকে। তাই দেখার জন্য আপনাকে কিছুই করতে হবে না। তবে যদি আপনি নিজের পছন্দের ফন্টে বাংলা দেখতে চান, তাহলে কিছু আলাদা ফন্ট ইনস্টল করতে হবে। প্রথমে আপনাকে কয়েকটি ইউনিকোড বাংলা ফন্ট ইনস্টল করতে হবে।

এখানে ক্লিক করে (ফাইলের আকার: 539.4 KB, জিপ ফাইল) কয়েকটি ইউনিকোড বাংলা ফন্ট ডাউনলোড করুন (বর্ণনা পড়ুন)। আপনার নিজের কাছেও অবশ্য এই ফন্টগুলো থাকতে পারে।

উবুন্টুর Home Folder এ গিয়ে View> Show Hidden Files এ ক্লিক করে .fonts নামে (বড় হাতের F নয়, অর্থাৎ Fonts লেখা যাবে না) একটি ফোল্ডার তৈরি করুন। Fonts নামের আগে একটি .(Dot) থাকবে। ইউনিকোড ফন্টগুলো এই নতুন ফোল্ডারে paste করে দিন। কম্পিউটার একবার রিস্টার্ট করুন। আপনার সিস্টেম বাংলা দেখার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। উবুন্টুতে ফন্ট ইনস্টল করার পদ্ধতি নিয়ে আমার আগের আর একটি পোস্ট আছে। কিন্তু কখনও কখনও সেই পদ্ধতিটি কাজ নাও করতে পারে।

বাংলা লেখার পদ্ধতি
আপনাকে প্রথমে উবুন্টু থেকে অনলাইনে কানেক্ট (Connect online) অবস্থায় থাকতে হবে। এবার সিনাপ্টিক প্যাকেজ ম্যানেজার চালু করুন। (System>Administration>Synaptic package manager)। পাসওয়ার্ড (Password) দিয়ে প্রবেশ করুন।

Search লেখা জায়গাটিতে Scim লিখে সার্চ দিন। Scim লেখাতে ক্লিক করে (যে কোন) Mark for install সিলেক্ট করুন। প্রয়োজনীয় অন্যান্য ফাইলও (Dependency) একইসাথে সিলেক্ট হয়ে যাবে। এবার scim-m17n লিখে সার্চ করুন। এই শব্দটিকেও ক্লিক করে Mark for install নির্দিস্ট করুন। এবার Apply বোতামে ক্লিক করুন।

উবুন্টুর সিনাপ্টিক ম্যানেজার অনলাইন থেকে নিজে থেকেই প্রয়োজনীয় ফাইলসহ (Dependency) SCIM ইনস্টল করবে। আপনাকে অতিরিক্ত কোনরকম পরিশ্রম করতে হবে না। ইনস্টল শেষ হলে কম্পিউটার রিস্টার্ট (Restart) করুন। কম্পউটারে ইনস্টল থাকা SCIM নিজে থেকে পরবর্তী বুটআপের (Bootup) সময় চালু হয়ে যাবে।

এবার বাংলা লিখতে হলে আপনাকে কম্পিউটারের সেটিং এ একটু পরিমার্জনা (Modify) করতে হবে।
উপরের ছবিটি লক্ষ্য করুন। System>Preferences> SCIM input method system চালু করুন। এবার উপরের ছবির মতো করে Global Setup অংশে যান। সেখানে Disable All ক্লিক করুন। সব সিলেকশন বন্ধ হয়ে যাবে। এবার মাউস দিয়ে bn-unijoy লেখাতে একটি টিক চিহ্ন দিয়ে দিন। Apply করে OK করুন। কম্পিউটারকে একবার রিস্টার্ট করে নিন। এবার যেকোন টেক্ট এডিটর যেমন Open office বা Gedit বা Leafpad খুললে একবার একসাথে Ctrl+Spacebar চাপুন। নীচে ডানপাশে Scim চালু হবার বার্তা দেখা যাবে।
এই চিহ্নটি দেখার জন্য আপনাকে একটি Keyboard Indicatior Applet লাগাতে হবে। তার জন্য নিচের প্যানেলে Right Click করুন। Add to Panel এ ক্লিক করে Keyboard Indicator সিলেক্ট করে +Add বোতাম চাপুন।

উবুন্টুতে বাংলা লেখার এই পদ্ধতিতে আপনি ইউনিজয় কিবোর্ড পদ্ধতিতে টাইপ করতে পারবেন। ইউনিজয় (Unijoy) পদ্ধতির সাথে বিজয় (Bijoy) এর টাইপিং পদ্ধতির খুব একটা পার্থক্য নেই। শুধু এ-কার, োকার, হ্রস্ব ইকার ' ি' ইত্যাদি টাইপ করতে হবে বর্ণের পরে।

একই পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটে (Website) বা ব্লগের (Blog) মন্তব্য (Comment) ঘরে অনায়াসে বাংলা লিখতে করতে পারবেন। কোন সমস্যা হবার কথা নয়। কোন সমস্যা হলে মন্তব্য আকারে কিংবা ই-মেইল করে জানাতে দ্বিধা করবেন না।


×× অনলাইনে সংযুক্ত থেকেই Scim Setup চালু করতে হবে।
×× ইউনিকোড ফন্ট ইনস্টল থাকতে হবে।
×× উবুন্টু ৯.০৪ লিনাক্সে এই পদ্ধতিতে সুন্দরভাবে কাজ করছি। এই লেখাটি লিখছি উবুন্টু থেকে।

ইউনিকোড কেন?

অনেকেই মাঝে মধ্যে প্রশ্ন করেন, ইউনিকোড ছাড়াও কম্পিউটারে বাংলা লেখা বা পড়া সম্ভব। তাহলে ইউনিকোডের বিশেষত্ব কোনখানে? আসুন এবার সেই প্রশ্নটির উত্তরগুলো দেখে নেই-

১। সাধারন সফটওয়্যারের সাহায্যেও কম্পিউটারে বাংলা লেখা বা পড়া যায়। তবে প্রচলিত পদ্ধতিটি কিন্তু সার্বজনীন নয়। এক সফটওয়্যারে টাইপ করা বাংলা অন্য কোন সফটওয়্যারে সম্পাদনা করা সম্ভব নয়। অর্থ্যাৎ বিশ্বের যেকোন প্রান্তে বসে আপনি কোন ফাইলের বাংলা লেখা পড়া বা সম্পাদনা করতে পারবেন না। কিন্তু কোন লেখা ইউনিকোডে লেখা হলে তা কম্পিউটারে যেকোন ইউনিকোড ফন্ট ইনস্টল করা থাকলেই পড়তে পারবেন।

২। ইন্টারনেটে তথ্য অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে ইউনিকোড খুবই জরুরী। এখন ইন্টারনেটে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষাতেও ইউনিকোড ভিত্তিক তথ্য সমৃদ্ধ সাইট আছে। এসব সাইট থেকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় তথ্য খুঁজে বের করার কাজটি ইউনিকোড না থাকলে কখনই সম্ভব হতো না। উল্লেখ্য, ইউনিকোড ছাড়াও বেশ কিছু বাংলা সাইট আছে, যা অনেক সহজে পড়া গেলেও এসব সাইট থেকে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে বাংলায় তথ্য খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। তাই হাতে গোনা কিছু পত্রিকার সাইট ছাড়া এখন ইন্টারনেটের জনপ্রিয় সাইটগুলোর বেশির ভাগই ইউনিকোড ভিত্তিক।

৩। ইউনিকোড বাংলা টাইপিং এডিটরের সাহায্যে আপনি কম্পিউটারের যেকোন ফোল্ডার বা ড্রাইভের নাম বাংলায় লিখতে পারবেন। এছাড়াও এর মাধ্যমে বাংলায় ই-মেইল আদান প্রদান বা মেসেঞ্জারে চ্যাট করা যাবে।

৪। প্রতিটি কম্পিউটার ব্যবহারকারীই নিজের মাতৃভাষায় একটি অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের ইচ্ছে পোষন করেন। আর এই কাজটিই সম্ভব হচ্ছে ইউনিকোড থাকার ফলে। ইতোমধ্যে লিনাক্স উবুন্টু’র কল্যানে আমরা বাংলা অপারেটিং সিস্টেম ‘শ্রাবণী’ এবং ‘হৈমন্তি’ পেয়েছি। এছাড়া আর কিছুদিনের মাঝে মাইক্রোসফটের বাংলা ভিস্তা আসার কথা রয়েছে।

বাংলা ভাষায় ইউনিকোড যখন প্রথম আসে তখন অনেকেই ইউনিকোড শুনে ভ্রু কুঁচকে বলে ফেলতেন, ইউনিকোড আবার কি …ইউনিকোড না হলেও তো চলে…ইত্যাদি। এই ভ্রু কুঁচকানো মানুষের দলে অনেক আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সফটওয়্যার ব্যবসায়ীরাও ছিলেন। তবে যখন তারা বুঝতে পেরেছেন ইউনিকোড না থাকলে হালে পানি পাওয়া যাবে না তখন আবার ইউনিকোডকেই গ্রহন করেছেন। তবে এখনও ইউনিকোডের ব্যাপারে অনেকেই উদাসীন। যেমন আমাদের দেশের বেশির ভাগ দৈনিক পত্রিকার সাইট এখনও ইউনিকোডে রুপান্তর করা হয়নি। তারা এখনও ইউনিকোডের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের সবটুকু সুবিধা ভোগ করতে চাইলে ইউনিকোড প্রযুক্তিকে গ্রহন করতে হবে। কারন এটি সার্বজনীন; অর্থ্যাৎ এক এবং অভিন্ন। তাই যেকোন প্লাটফর্মে, যেকোন প্রোগ্রামে ইউনিকোড ব্যবহার করা যায়। এখনও বেশ কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো ইউনিকোড সমর্থন করে না। তবে সারাবিশ্বজুড়ে ইউনিকোডের প্রতি সমর্থন যেভাবে বাড়ছে তাতে একটা কথা সহজেই বলে ফেলা যায় আর তা হলো, ইউনিকোড সমর্থন না দিতে পারলে ভবিষ্যতে কোন সফটওয়্যার বাজারে টিকে থাকতে পারবে না।

[এই লেখায় ব্যবহৃত তথ্যসমূহ ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহীত]

লেখাটি সংগৃহীত হয়েছে বিপ্রতীপ ব্রগ থেকে।

ইউনিকোড কি?

ইউনিকোড সম্পর্কে কথা শুরু করার আগে একটু গণকযন্ত্রকে অক্ষর চেনানোর ব্যাপারটি সম্পর্কেও কথা বলে নেয়া প্রয়োজন। আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী গণকযন্ত্রটি কিন্তু কোন ভাষা, অক্ষর কিংবা বর্ণমালা কিছুই বুঝে না। সে বুঝে শুধু সংখ্যা। একথা শুনে আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন জাগছে যদি গণকযন্ত্র শুধু সংখ্যাই বুঝে তবে আমরা কম্পিউটারে A B C D লিখি বা দেখি কিভাবে। আসলে কম্পিউটারে প্রতিটি অক্ষরের জন্য সংখ্যা বরাদ্দ থাকে। কম্পিউটারে কোন লেখা দেখার জন্য ফন্ট প্রয়োজন হয়। ফন্টের কাজ হলো এই সংখ্যাকে ছবির মতো করে দেখানো। ফন্ট ফাইলে প্রতিটি সংখ্যার জন্য একটি করে অক্ষরের ছবি ম্যাপিং করা থাকে। সেজন্যই ফন্ট ফাইলটি ইনস্টল করা না থাকলে আমরা বাক্স দেখি। সাধারনত আমরা যেসব অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি তার বেশির ভাগই ইংরেজি ভাষায়। সেজন্য ইংরেজি ভাষায় ফন্ট পাওয়া বা কম্পিউটারে ইংরেজির ব্যবহার খুবই সহজ। ঝামেলার শুরু যখন আপনি কম্পিউটারে অন্য কোন ভাষা ব্যবহার করতে চাইবেন। আর সেই ঝামেলাটির সমাধান করার জন্যই ইউনিকোডের আবির্ভাব। এর কাজ হলো বিশ্বের সবগুলো ভাষাকেই গণকযন্ত্রের কাছে গ্রহনযোগ্য করে তোলা। আর এই কাজটি যে প্রতিষ্ঠান করছে তার নাম ‘ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম’। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা এবং এর কাজ হলো বিশ্বের প্রতিটি ভাষার প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি করে নম্বর প্রদানের মাধ্যমে একে গণকযন্ত্রের সাথে পরিচিত করে তোলা, সেটা যে প্লাটফর্মের জন্যই হোক, যে প্রোগ্রামের জন্যই হোক, আর যে ভাষার জন্যই হোক । যেকোন ব্যাক্তি বা সংস্থা এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ গ্রহনের মাধ্যমে ইউনিকোডের বিস্তারে কাজ করে যেতে পারেন। মাইক্রোসফট, এ্যাপল, আইবিএম সহ বিশ্বে নামী দামী প্রায় সব ধরনের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নির্মাতা ইউনিকোডের সাথে তাল মিলাতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম এবং ব্রাউজারে ইউনিকোড সমর্থন রয়েছে। এছাড়া আরোও অনেক প্রতিষ্ঠান ইউনিকোড সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

বাংলা ভাষায় ইউনিকোড আসে একটু দেরিতে; ২০০০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে। এটি ছিল ইউনিকোড ৩.০ সংষ্করন। তবে প্রথমদিকে এতে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছিলো। এতে খন্ড-ত (ৎ), ক্ষ, রেফ, য-ফলা, দাঁড়ি ইত্যাদি ছিল না। এর ফলে শুরুতে অনেক বিতর্ক দেখা দেয়। এসব সমস্যার অনেকগুলোই ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বা সমাধান করার চেষ্টা চলছে। আমাদের বাংলা ভাষা অনেক আগেই ইউনিকোডে যুক্ত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতা এবং উদ্যোগের অভাবে তা সঠিক সময়ে হয়নি। বাংলাকে ইউনিকোডে যুক্ত করার ব্যাপারে আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা ছিলেন উদাসীন। তারা এর বিশেষত্ব অনুধাবন করতে অনেকখানি বিলম্ব করে ফেলেছেন। আসলে সত্যি কথা বলতে কি, বাংলা ভাষাকে ইউনিকোডে যুক্ত করার জন্য এবং প্রথমদিকের সমস্যাগুলো দূর করার জন্য বাঙ্গালীদের চেয়ে কয়েকজন বিদেশীই বেশি ভূমিকা পালন করেছেন। এই বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে আশার ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের দেশের বেশ কিছু তরুন প্রযুক্তিবিদ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের বাংলা ইউনিকোড টাইপিং এডিটর, ফন্ট ইত্যাদি ডেভোলপের করে তথ্যপ্রযুক্তিতে ইউনিকোড প্রযুক্তির বিকাশে ভূমিকা রাখছেন। এসব সফটওয়্যার এবং ফন্টের বেশির ভাগই একদম বিনামূল্যে পাওয়া যায়। বাংলা ইউনিকোড টাইপিং এডিটরের ক্ষেত্রে ‘অভ্র’ নামের একটি অসাধারন সফটওয়্যার ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

তথ্য সংগৃহীত হয়েছে বিপ্রতীপ ব্লগ থেকে।
 

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

কিছু কথা

সফটওয়ার ও ওয়েবওয়ারের বিভিন্ন টিপ্‌স, টিউটোরিয়াল, হ্যাক্‌স, টেমপ্লেট বা থিম্‌স ইত্যাদি নিয়েই আমি ব্লগ লিখছি। আমার প্রধান আগ্রহ ব্লগিং টিপস। এছাড়াও প্রযুক্তির বিচিত্র বিষয় নিয়ে মত বিনিময়, সমস্যা ও তার সমাধান এবং আলোচনা করার জন্য এই ব্লগ খুলেছি। আশা করি আপনি নিরাশ হবেন না। এই ব্লগের সব লেখাগুলো যেকোন মিডিয়ায় এই লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশ করতে পারবেন। বিস্তারিত পড়ুন....

Search This Blog

© 2009-2014 Bangla Hacks | Design by: Bangla Hacks. Powered by: Blogger